মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব

শ্রীমৎ অগ্রবংশ মহাথের

রাজগুরু অগ্রবংশ মহাথের ১৯২১ সনের ২৩ নভেম্বর বিলাইছড়ি উপজেলার কুতুবদিয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত তঞ্চঙ্গ্যা পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তিনি ১৯৪২ সনে উপসম্পদা গ্রহন করেন এবং ১৯৪৮ সনে ত্রিপিটক বিষয়ে অধ্যয়ন করার জন্য বার্মা(বর্তমান মিয়ানমার) গমন করেন। তিনি রেঙ্গুনের কাসাইহেডা বিশ্ববিদ্যালয় হতে পালি সাহিত্যে এম.এ ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ত্রিপিটক বিশারদ উপাধি লাভ করেন। তিনি ১৯৪৫-৫৬ সনে রেঙ্গুনে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বৌদ্ধ মহাসম্মেলনে অন্যতম সংগীতিকারক হিসাবে যোগদান করেন। তিনি ১৯৫৮ সনে দেশে প্রত্যাবর্তন করলে তাঁকে তৎকালীন চাক্‌মা রাজা কর্তৃক রাজগুরু পদে বরণ করে নেয়া হয়। উল্লেখ্য, ১৯৬১ সনে শ্রীমৎ মাধনানন্দ মহাস্থবির বনভান্তেকে উপসম্পদা প্রদানের সময় তাঁর নেতৃত্বে কর্ম্মবাচা পাঠ করা হয়। তিনি ষাটের দশকে পার্বত্য চট্টগ্রামে বৌদ্ধধর্ম প্রচারে উল্লেখ্যযোগ্য অবদান রাখেন। তিনি আমেরিকা, ইউরোপ ও রাশিয়া ভ্রমন করেন। তিনি রাজগুরু হিসাবে রাঙ্গামাটি রাজ বিহারে অবস্থান করেছেন।

 

বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা

বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ মার্চ বিলাইছড়ি উপজেলার কুতুবদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তিনি ১৯৫৩ সনে মেট্রিক পাশ করেন এবং স্যার আশুতোষ কলেজে পড়াশুনা করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি কর্ণফুলী পেপার মিলে চাকুরী গ্রহন করেন এবং ১৯৫৯ সনে সহকারী কল্যাণ কর্মকর্তা পদে সরকারী চাকুরীতে যোগ দেন। তিনি দীর্ঘ ৩৫ বছর জেলা প্রশাসনে কর্মরত ছিলেন। তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত লেখক। তিনি অসংখ্য গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন। এছাড়া তিনি নাটক এবং উপন্যাসও রচনা করেছেন। তাঁর এসব লেখা স্থানীয় পত্রিকা ও সাময়িকী ছাড়াও কলকাতা থেকে প্রকাশিত ‘বোধিভারতী’‍‌‌‌ নামক সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলো হচ্ছে, ভাগ্যরত্ন, তঞ্চঙ্গ্যা পারিচিতি ও চাক্‌মা তঞ্চঙ্গ্যা লোকায়ত দর্শন।

 

রবীন্দ্র লাল চাক্‌মা

রবীন্দ্র লাল চাক্‌মা ১৯৫০ সনের ১৩ মার্চ বিলাইছড়িতে জন্মগ্রহন করেন। তিনি ১৯৭২ সনে আইএ পাশ করেন। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহন করার জন্য ভারতের মিজোরাম হয়ে আসাম গমন করেন। কিন্তু অমৃত বাজার পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদে চাক্‌মারা পাকিস্তানের দালাল মন্তব্য করার প্রতিবাদে তাৎক্ষনিকভাবে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। দেশে ফেরার পর ১৯৭১ সনের জুলাই মাসে কর্ণফুলী রেয়ন কমপ্লেক্সে চাকুরী গ্রহন করেন। দেশ স্বাধীন হবার পর চাকুরী ছেড়ে ব্যবসা শুরু করেন। তিনি ১৯৮৪ সনে বিলাইছড়ি বাজার এবং ১৯৯৩ সনে আপার রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং ১৯৯৬ সনে ২০ মার্চ উক্ত পরিষদের অস্থায়ী চেয়ারম্যান হিসাবে যোগদান করেন। তিনি ছাত্র জীবনে ছাত্র ইউনিয়নের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সঙ্গে যুক্ত আছেন এবং জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও বিলাইছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি রাঙ্গামাটি ডেভেলাপমেন্ট ফাউন্ডেশন ও রাজগুরু অগ্রবংশ শিশু সদনের সভাপতি। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত আছেন।


Share with :

Facebook Twitter